সুস্থ থাকতে কিছু স্বাস্থ্যবিধি সকলেই মেনে চলেন, কিন্তু যেগুলি কি শরীরের পক্ষে আদৌ উপকারী!!!
- Admin
- Oct 30, 2017
- 2 min read
Updated: May 19, 2021
শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে আমরা সকলেই কিছু কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, এই সব স্বাস্থ্যবিধির আদৌ কোনও কার্যকারিতা আছে কি না! স্বাস্থবিধি নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা রয়েছে অধিকাংশ মানুষের।

শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে কে না চায়? তার জন্য আমরা কমবেশি সকলেই কিছু কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। এইসব স্বাস্থ্যবিধি বা হেলথ টিপস যে সব সময় কোনও ডাক্তারের কাছ থেকে পাওয়া যায়, তা নয়। অনেক সময়েই বাড়ির বড়দের কাছ থেকে বা বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকেও মেলে এই সব টিপস। আর আপনিও, কী যেন এক অন্ধ বিশ্বাসে, সেই সব টিপস মেনে চলেন সুস্থ থাকার লক্ষ্যে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, এই সব স্বাস্থ্যবিধির আদৌ কোনও কার্যকারিতা আছে কি না! এখানে রইল তেমনই ৮টি জনপ্রিয় স্বাস্থ্যবিধির হদিশ যেগুলি মেনে চলেন অনেকেই, কিন্তু যেগুলি কোনও উপকারে লাগে না শরীরের—
১. ‘বেশি চিনি খেলে ডায়বেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, কাজেই চিনি কম খাওয়াই ভাল’: ডায়বেটিসের রোগীদের চিনি খাওয়া বারণ ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, চিনি খেলে ডায়বেটিসের সম্ভাবনা বাড়ে। হ্যাঁ, বেশি চিনি বা মিষ্টি খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে, এবং স্থূলতা অনেক সময় টাইপ টু ডায়বেটিসের কারণ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু চিনি খাওয়ার সঙ্গে ডায়বেটিস হওয়ার কোনও প্রত্যক্ষ যোগ নেই। আর টাইপ ওয়ান ডায়বেটিস হয় সম্পূর্ণ জিন ঘটিত কারণে।
২. ‘নুন বেশি খাওয়া খুব খারাপ, কারণ এতে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়’: এটাও অনেকটা ওই চিনি আর ডায়বেটিসের সম্পর্কের মতো ব্যাপার। রক্তচাপ বাড়লে বেশি নুন খাওয়া অবশ্যই অনুচিৎ। কিন্তু যতদিন না উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিচ্ছে ততদিন নিশ্চিন্তে নুন খান। হ্যাঁ, বেশি নুন খাওয়া মোটেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। কিন্তু স্বাভাবিক মাত্রায় নুন খেলে হাই ব্লাড প্রেসারের কোনও ভয় থাকে না।
৩. ‘খাবার সব সময় ফ্রিজে রাখা উচিৎ, কারণ এতে খাবার তাজা থাকে’: কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলি ফ্রিজে রাখলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না চট করে। কিন্তু ফ্রিজের আভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অধিকাংশ খাবারেরই ক্ষতি করে থাকে। এর সবচেয়ে ভাল উদাহরণ পাঁউরুটি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ফ্রিজে রাখা পাঁউরুটিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা পাঁউরুটির তুলনায় ছ’গুণ তাড়াতাড়ি পচন ধরে।
৪. ‘মাংস রান্না করার আগে সবসময় ধুয়ে নেওয়া উচিৎ’: হ্যাঁ, ঠিকই। রান্নার আগে মাংস ধুয়ে নেওয়া অবশ্যই ভাল অভ্যাস। কিন্তু জানেন কি, যে কোনও কাঁচা মাংসে থাকে সালমোনেলা নামের এক অতি বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া? ফলে মাংস ধোওয়ার পরে আপনি যখন সেই মাংস রান্নাঘরেই কোথাও রেখে দিচ্ছেন, এবং ভেজা হাতটা মুছে নিচ্ছেন শাড়ির আঁচলে তখন আসলে গোটা রান্নাঘরে কিংবা সারা বাড়িতেই ওই বিদঘুটে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করছেন আপনি। তাহলে কী করবেন? মাংস ধোওয়ার পর সরাসরি তা রান্নার পাত্রে ফেলে দিন, আর ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
৫. ‘যারা মোটা হয়ে যাচ্ছে তাদের ডায়েট কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া উচিৎ’: ডায়েট কোল্ড ড্রিংকে সাধারণ কোল্ড ড্রিংকের তুলনায় স্বল্প পরিমাণ শর্করা থাকে। কিন্তু ঘটনা হল, আপনি যদি হঠাৎ করে শরীরে গৃহীত শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেন তাহলেই যে শরীরে কম পরিমাণে শর্করা যাবে তা কিন্তু নয়। বরং অন্য খাদ্য থেকে শর্করা গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে শরীর সেই ক্ষতি পূরণের বন্দোবস্ত করবে। যে কারণে অনেক সময়েই দেখা যায়, ডায়েট কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার ফলে ওজন কমার পরিবর্তে বেড়ে যাচ্ছে।
৬. ‘স্বল্প পরিমাণ মদ্যপান হার্টের পক্ষে ভাল’: এই ধারণা যে কতখানি ভুল তা বোঝার জন্য একটি তথ্যই যথেষ্ট— মদ্যপানের ফলে হার্টের উপকার হয় ঠিকই, কিন্তু মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে। বাকি ৮৫ শতাংশের মানুষের হার্টের ক্ষতিই হয় মদ্যপানের ফলে।



Comments